১০.৭% রাজস্ব-জিডিপি লক্ষ্যে এনবিআর

১০.৭% রাজস্ব-জিডিপি লক্ষ্যে এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক : June 27, 2026

দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ধরে রাখতে এবং অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯’ শীর্ষক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিভিন্ন সংস্কার ও কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। কর ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর অব্যাহতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-নির্ভর রাজস্ব আয় কমে যাওয়াকে এ হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারি প্রক্ষেপণ বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, এনবিআরের কর রাজস্ব আহরণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ সমপরিমাণ কর রাজস্ব আদায় হলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা জানান।

নীতিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সহনশীলতা জোরদারে উপযুক্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকার একটি প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে নীতিপত্রে বলা হয়েছে, কর ব্যবস্থার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, করদাতাদের আস্থা বৃদ্ধি এবং আধুনিক রাজস্ব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও কর আহরণের চক্রকে আরও গতিশীল করা হবে।

Share This