রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানান, প্রসিকিউশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় সেদিন শুনানি সম্ভব হয়নি। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন শাইখ মাহদী।
পরবর্তীকালে এ বিষয়ে নতুন করে বুধবার শুনানির দিন ধার্য করা হলেও একই কারণে তা আবারও পিছিয়ে যায়।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান বলেন, “ডিফেন্সকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করেনি প্রসিকিউশন। আমরা কেবল আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কপি পেয়েছি, বাকি ডকুমেন্টসও চাওয়া হয়েছে। আশা করছি পরবর্তী তারিখের আগেই সেগুলো পাওয়া যাবে।”
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এছাড়া স্থানীয় কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), যুবলীগ ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে।
বর্তমানে এ মামলায় চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক এবং ফজলে রাব্বি।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজ-সহ মোট ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।