বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও সংসদীয় বিতর্ক বিষয়ক প্রস্তাবনা

বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও সংসদীয় বিতর্ক বিষয়ক প্রস্তাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : April 29, 2026

বাংলাদেশ-মার্কিন স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই প্রস্তাব করেন তিনি। তবে স্পিকার পয়েন্ট অর্ডার গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন রুমিন ফারহানাকে। এ পর্যায়ে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা সংসদকে বলেন, গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে এবং সেই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি বেশ কিছু কথা বলেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দুই দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন। এখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরেকটি বিষয় আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমরা রপ্তানি করি। 

রুমিন ফারহানা বলেন, আমেরিকা থেকে সে পরিমাণ পণ্য আমরা আমদানি করি না এবং যে কারণে একটা বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বিরাট এবং এই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। তখন বাংলাদেশের যারা সুশীল সমাজ আছেন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আছেন তারা বারবার বলেছেন যে, একটি অনির্বাচিত সরকার এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না এবং এই চুক্তিতে অনেকগুলো ক্লজ আছে যেটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। সুতরাং নির্বাচনের পরে যখন একটি নির্বাচিত সরকার আসবে তখন যেন এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা দেখলাম যে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুনলো না এবং ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক…।

এ সময় স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্য বক্তব্য শুনুন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। ৩০১ বিধিতে আপনি পড়লে দেখতে পাবেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদের চলমান বিষয়ের ওপরে হতে হয়, কিংবা সংসদ কাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হতে হয়, আপনি একটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, আপনি নোটিশ দেন এটি বিবেচনা করে দেখা হবে।

এরপর এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, স্পিকার একটা মিনিট, এই চুক্তিটি যদি সরকার চায়, তারা এটিকে বাতিল করতে পারে, চুক্তিটি সংসদে আনা হোক। 

এ সময় স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।

Share This