আফগানিস্তানের বিভিন্ন এফএম রেডিও কেন্দ্র থেকে বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। ‘বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের’ অভিযোগে সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বিবিসি বারবার কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করায় আপাতত দেশজুড়ে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করেন। পরিস্থিতি সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের শ্রোতাদের জন্য পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রয়েছে।
স্বল্পতরঙ্গ ও মধ্যম তরঙ্গের রেডিও, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে বলে জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শোনেন। এর মধ্যে মেয়েদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে। তালেবান সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে মেয়েরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারছে না।
১৯৮১ সালে দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করে বিবিসি।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে আফগানিস্তানে কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করার পর থেকে বিবিসিই দেশটিতে সম্প্রচার চালানো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ছিল।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সম্প্রচারে সংগীত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও কমেছে। এখন নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে সংবাদ বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না।
দেশটির কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারলেও বিদ্যুতের সংকট, ইন্টারনেট ও যোগাযোগের উচ্চ ব্যয় এবং স্বল্প সাক্ষরতার হার তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।