সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি নিয়ে যা বলা হলো

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি নিয়ে যা বলা হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক : July 26, 2026

দুই দিন আগে পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিকভাবে সবার কথা বলার ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সরকারের আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য নেই।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ায় ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন।

 

গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা হাফিজ উদ্দিন।

রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল।

 

রোববার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা চাই রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকুক। এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারে। তবে আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় এখানে দেখিনি।’

তার (সাহাবুদ্দিন) নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী তিনি যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তা পাবেন। এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাস নিরাপত্তা সুবিধার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’

বিরোধী দল কেন সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেফতার চায়? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী পক্ষকে জিজ্ঞেস করেন কেন চায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ও বিশেষ অধিকার (প্রিভিলেজ) ভোগ করেছেন। ওই সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে ফৌজদারি মামলার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্বকালের বাইরে কোনো বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে।’

 

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের কথোপকথন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকা যদি এ ধরনের খবর প্রকাশ করে, তাহলে তথ্যপ্রমাণ তাদেরই দিতে হবে। আজকের ইন্টারনেটের যুগে কারও সঙ্গে কথা বলতে লন্ডন যেতে হয়? এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়।

 

সাবেক রাষ্ট্রপতির আগের দায়িত্ব পালনকাল দুদক ও ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকার সময়কার বিষয়ে কোনো বিচার হবে কি না? এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সে সময় কোনো অভিযোগ থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তা বিবেচিত হবে।

 

এদিন সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কার ও সম্মাননা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Share This