অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : September 04, 2026

অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখার সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার খানজাহান আলী এলাকার মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), তেরখাদা এলাকার আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), বাগেরহাটের মোংলা এলাকার শেখ সাকির আহম্মেদ এবং খুলনার খালিশপুর এলাকার মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)।

সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন নজরদারিতে দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় আকৃষ্ট করত।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বেটিং সাইটে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এজন্য বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। টাকা জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, অবৈধ লেনদেন পরিচালনায় ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করত চক্রটি। দেশের বিভিন্ন এলাকার এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরে সেগুলো বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনের অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।

এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে খুলনার খানজাহান আলী ও খালিশপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের অন্য সহযোগীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযানকারী দল সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে আসে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

পরে রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের মূলহোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share This