সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে দেশের উন্নয়নে অংশীদার করা হলে তারা জাতীয় জনসম্পদে রূপান্তরিত হবে।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক সুবিধা ঘুরে দেখেন। তিনি বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন, পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। পরে ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কলেজ, বিশেষায়িত স্কুল এবং আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের জন্য পৃথক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মক্ষম নাগরিকে পরিণত করা। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানে সহায়তা করা হচ্ছে। আমরা চাই তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠুক।”
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়েই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, সেবা ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের সেবা প্রদানের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০৩টি কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা সম্প্রসারণ করা।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্পিচ থেরাপি, ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন সেবা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মমুখী করে তোলা গেলে তারা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, “এই জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তুলতে পারলে তারা আর সমাজের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না; বরং দেশের জন্য মূল্যবান জনসম্পদে পরিণত হবে। সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। আসন্ন বাজেটে জনকল্যাণ, মানবিক বাংলাদেশ গঠন এবং মানুষকে জনসম্পদে রূপান্তরের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. তরিকুল আলম, পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সোনামণি চাকমা, কলেজের অধ্যক্ষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।