হামের জটিলতায় বাড়ছে নিউমোনিয়া, অভিভাবকদের সতর্কবার্তা

হামের জটিলতায় বাড়ছে নিউমোনিয়া, অভিভাবকদের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : May 13, 2026

বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিউমোনিয়ার জটিলতা। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও চিকিৎসাসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ কথা বলেন। 

তিনি জানান, হাম-পরবর্তী জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া দেখা দেওয়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। গত ১১ মে দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

মহাপরিচালক জানান, বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শিশুদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে ১০৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশু আসায় এই হার বেড়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন বর্তমানে দেশব্যাপী চলছে এবং আগামী ২০ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। টিকা নেওয়ার ৩-৪ সপ্তাহ পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় সংক্রমণের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি শিগগিরই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা সামাল দিতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক), ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ডিএনসিসি হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা পর্যায়েও দ্রুত আইসিইউ এবং অক্সিজেন সাপোর্ট বাড়ানোর কাজ চলছে।

 

ভ্যাকসিনসংকট প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাইপলাইনে রয়েছে। বিসিজি, ওরাল পোলিও, হাম-রুবেলাসহ টাইফয়েড ও জরায়ু মুখের ক্যানসারের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে।

 

অভিভাবকদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা

শিশুর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

 

তিনি জানান, যদি শিশুর মধ্যে লক্ষণগুলো (দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট, একেবারে খেতে না পারা, বারবার বমি বা খিঁচুনি হওয়া এবং অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা নিস্তেজ হয়ে পড়া) দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত টারশিয়ারি লেভেলের হাসপাতালে নিতে হবে।

তিনি আরও পরামর্শ দেন, সাধারণ লক্ষণে আতঙ্কিত হয়ে সরাসরি ঢাকায় না এসে স্থানীয় উপজেলা বা জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এছাড়া, যারা আগে নিয়মিত দুই ডোজ টিকা পেয়েছে, তাদেরও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় পুনরায় টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে মৃত্যুরোধে ইমিউনাইজেশনের পাশাপাশি মা ও শিশুর পুষ্টিমান বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

Share This