ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের মাধ্যমে দেশে ‘ক্যাশলেস অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে। আর্থিক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তারের ফলে ক্রেডিট কার্ড এখন শুধু কেনাকাটার মাধ্যম নয়, বরং আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেনের প্রতিটি ধাপ সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় অবৈধ লেনদেন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধেও ক্রেডিট কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনে কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আরও সুসংহত হবে।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ও বাজার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি আস্থা ও আগ্রহ বাড়ায় ব্যাংকগুলোও আধুনিক ও নিরাপদ পেমেন্ট সলিউশন চালু করছে।
এ প্রসঙ্গে প্রাইম ব্যাংক জানিয়েছে, গত তিন বছরে তাদের কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ভিসা, মাস্টারকার্ড ও জেসিবি ব্র্যান্ডের গোল্ড, প্ল্যাটিনাম, ওয়ার্ল্ড ও সিগনেচার ক্যাটাগরির কার্ড দেশে ও বিদেশে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে অতিরিক্ত ফি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা দূর করতে ‘জিরো বাই প্রাইম ব্যাংক’ নামে বিশেষ একটি কার্ড চালু করা হয়েছে। ভিসা সিগনেচার ক্যাটাগরির এই কার্ডে ইস্যুয়িং বা বার্ষিক ফি নেই। পাশাপাশি এমএফএস ফান্ড ট্রান্সফার, ওভার লিমিট ও ইএমআই প্রসেসিং ফিও রাখা হয়নি।
এ ছাড়া গ্রাহকদের জন্য লাইফস্টাইল অফার, ক্যাশব্যাক, হোটেল-রেস্তোরাঁয় বুফে অফার, শূন্য সুদে ইএমআই সুবিধা ও বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্টস চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। তবে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুও গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল লেনদেন সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। ব্যাংকগুলোও গ্রাহকের তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করছে।
প্রাইম ব্যাংকের দাবি, তাদের কার্ডগুলো ইএমভি চিপসমৃদ্ধ এবং প্রতিটি অনলাইন লেনদেন ওটিপির মাধ্যমে সুরক্ষিত। পাশাপাশি এসএমএস ও ‘মাইপ্রাইম’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রাহকবান্ধব ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।